ডায়েরির পাতা থেকে

Mar 31, 2023 | Teacher's Diary

বর্ণালী দলবত, ৩১ মার্চ ২০২৩

দিন যায় কথা থাকে, সময় যায় ফাঁকে ফাঁকে। এরই মাঝে কত স্মৃতি জমে থাকে মনের অক্ষরে যা কোনদিন ভোলার নয়। সত্যিই খুব দ্রুত ২০২২ সালটা কেমন করে যেন কেটে গেলো।ভীষণ কষ্ট লাগে যখন কোন মায়ার বন্ধন ছেড়ে চলে যেতে হয়। সময় যেন বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রতি মূহুর্ত। বিষেশ করে তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের কথাগুলো সময়ে অসময়ে আমাকে অনেক ভাবায়। তখন আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না। কিন্তু কী করা যাবে এটা আমার নিয়তির লেখন। আমরা সবাই একদিন না একদিন এখান থেকে চলে যাবো তা নিয়ে কোন দ্বিমত নাই। কিন্তু আমাকেই আগে যেতে হবে এনিয়েও কোনদিন ভাবিনি।
একথাও না লিখেই পারছি না অনেক ভুল অনেক ভাবে হয়। মাঝে মাঝে জানা সত্ত্বেও ভুল হয়ে যায় আবার না জেনেও ভুল হয়। কখনও ছোট ভুল কখনও বড় ভুল। আমার এভুলটা প্রতিষ্ঠানের জন্য সত্যিই একটা.…..।তারপরও মোমেনা আপা ও ভাইয়া কিভাবে অভিভাবক ও শিশুকে সামলে নিলেন।আমাকে কিছুই বললেন না আমি তো ভেবেছিলাম কিছু একটা কথা আমাকে আপা বলবেন। কিন্তু না খুব সহজেই আপা ভালোবাসার দৃষ্টিতে নিয়েছেন। আর আমিও বুঝতে পেরেছি এবং এমনটা আর হবেও না।
কিছুদিন আগের কথা এবছর অর্ধদিবস ছুটি কাটালেও পুরো দিনটা এপর্যন্ত শুধু একদিন কাটিয়েছি। পরেরদিন স্কুলে গেলাম আর শিশুরা জিজ্ঞেস করতে লাগলো আপু তুমি গতকাল আসনি কেন? কি হয়েছিল? এখন কি তুমি সুস্থ আছ ইত্যাদি। শেষ ক্লাসে পুলক আমাকে বলল আপু তুমি সেদিন আসনি কেন? আমি উত্তর দিলাম অসুস্থ ছিলাম।পরে আমি তাকে বললাম,আমি যে আসিনি তোমার কেমন মনে হল? যদিও শিশুটি দূরন্ত/অস্থির তবুও তার কথাটা মনে গিয়ে লেগেছিল। সত্যিই একজন শিশুর কাছে আপু আপুই থাকে। আবার একজন আপুর কাছে শিশুই হচ্ছে ভালোবাসার জায়গা যা প্রকাশ করেও শেষ হবে না।

অসুস্থতার কারণে আমি এখন ছুটিতে থাকলেও শিশুদের ভালোবাসার টানে স্কুলে আসি। আর শিশুদেরকে ভালোবাসতে আমিও কমতি রাখিনি।শিশুদের সাথে পড়াশোনা, খেলাধুলা, নাচ-গান এবং তাদের সাথে কথা বলা, মোটের উপর ওদের সাহচর্য থেকে আমি কখনোই বঞ্চিত হতে পারব না।সেজন্য আমি আবার কয়েক মাস পর সহজপাঠে নিয়মিত যুক্ত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করি।